রবিবার - জুলাই ২১ - ২০১৯ ||
Home / বাংলাদেশ / রাজশাহী / রোববার থেকে তাহেরপুরসহ সারাদেশে পৌরসভাগুলোর নাগরিক সেবা বন্ধ হয়ে যাবে

রোববার থেকে তাহেরপুরসহ সারাদেশে পৌরসভাগুলোর নাগরিক সেবা বন্ধ হয়ে যাবে

রাজশাহী ব্যুরো প্রধান : রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশনের দাবিতে আগামী ১৪ জুলাই রোববার থেকে লাগাতার আন্দোলনে যাচ্ছেন তাহেরপুর সহ দেশের সব পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে ওইদিন থেকে দেশের ৩২৮টি পৌরসভায় সড়ক বাতি যেমন জ্বলবে না তেমনি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং নাগরিক সনদপত্র ও জন্ম ও মৃত্যুসনদ প্রদানসহ পৌরসভার সব ধরনের নাগরিক সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাহেরপুর পৌরসভার কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করা হয়। দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেই একইভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলনের ওই কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দেশের সব পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী আগামী ১৪ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচীতে অংশ নিবেন।

ফলে তাদের পক্ষে স্ব স্ব কর্মস্থলে অবস্থান করা সম্ভব হবে না এবং নাগরিক সেবা প্রদান করাও সম্ভব হবে না। তবে জাহাঙ্গির আলম এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচী পালনকালে শুধুমাত্র পাইপ লাইনে পানি সরবরাহ চালু রাখা হবে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে তারা প্রায় দুই বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন।

আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়, দেশের সংবিধান অনুযায়ী পৌরসভা রাষ্ট্রীয় তথা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং তাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। শহরকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, ড্র্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পয়ঃনিষ্কাশন, সড়ক আলোকিত করা এবং বিভিন্ন সনদ প্রদান ও নিববন্ধনসহ অন্তত ২০ ধরনের সেবা নাগরিকদের দিয়ে থাকে।

আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভার নিজস্ব আয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের বিধান থাকলেও দেশের ৯০ ভাগ পৌরসভার পর্যাপ্ত আয় বা রাজস্ব না থাকায় বর্তমানে স্থান ভেদে ৩ থেকে ৬৬ মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।তাহেরপুর পৌরসভায় ৩ মাস করে বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটি থোক বরাদ্দের মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে কিন্তু এটি কোন স্থায়ী সমাধান নয়।জাহাঙ্গির আলম বলেন , স্থানীয় সরকারের অধীন অপর দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ৭৫ ভাগ এবং জেলা পরিষদের জন্য শতভাগ বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেটানো হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৌরসভাগুলোর জনপ্রতিনিধিরাও আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছন।ওই সংগঠনের নেতা ও শহর পরিকল্পনাবিদ আল মেহেদী হাসান, পৌরবিধি পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেন, মানুষের জন্যই আইন তৈরি হয় আবার মানুষের প্রয়োজনেই তা পরিবর্তন করা হয়।

যে কারণে এ পর্যন্ত দেশের সংবিধান ১৬বার পরিবর্তন করা হয়েছে। এমনকি পৌরসভার আইনও কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে তাহলে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত আইনের কেন পরিবর্তন করা যাবে না। 

স্বাধীন কথা ডট কম ১২ জুলাই ২০১৯

About মাসুদ রানা রাব্বানী, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।

Check Also

বিএমডিএ’র দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকদের নির্ধারিত মজুরি অব্যাহতভাবে কর্তনের অভিযোগ

রাজশাহী প্রতিনিধি: বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সদর দফতরসহ মাঠপর্যায়ে কর্মরত ৩৭৫ জন দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকদের …

বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে রাজশাহীর বাজারে ঝাল ছড়াচ্ছে কাঁচা মরিচ

মাসুদ রানা রাব্বানী: বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে রাজশাহীর বাজারে সাত দিনের ব্যবধানে ৪০ টাকা কেজি …

রাজশাহীতে স্বাস্থ্যসেবায় সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে স্বাস্থ্যসেবায় সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *