শনিবার - নভেম্বর ১৭ - ২০১৮ || ৭ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী || ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ( বর্ষাকাল )
Home / অর্থনীতি / ভোগ্যপণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড

ভোগ্যপণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড

বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে উৎপাদিত মুগডাল ক্রমে কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব অঞ্চলের মুগডাল জাপানী মানুষের খাদ্য তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিচ্ছে। আর এ কারণে বাড়ছে মুগডালের চাষ। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় ছাড়াও এ কাজে এগিয়ে এসেছে কয়েকটি সরকারী-বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। কৃষক ও মুগডালের জাত নির্বাচনসহ উৎপাদন থেকে শুরু করে রফতানি, সব কাজেই সহায়তা করছে এসব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। ফলে মুগডালের চাষ করে কৃষকরা লাভ করছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা।

চলতি বছরে কেবলমাত্র দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালী থেকে জাপানে ৭০০ টন মুগডাল রফতানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর একটি অংশ এরই মধ্যে জাপানে রফতানি হয়েছে। পটুয়াখালী থেকে ২০১৩ সালে ১০৪ টন এবং ২০১৪ সালে ১০৭ টন মুগডাল জাপানে রফতানি করা হয়। জাপান-বাংলাদেশ সোশ্যালবিজনেসের আওতায় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান মুগডাল রফতানি করছে। সংস্থাটি প্রথমে কৃষক ও প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মুগডাল সংগ্রহ করে। তারপর সেটা প্রক্রিয়াজাত করে জাপানে পাঠানো হয়।

পটুয়াখালী জেলা বরাবরই মুগডাল চাষে এগিয়ে। দেশে যে পরিমাণ মুগডাল উৎপাদন হয়- তার ৬০ শতাংশ ডাল উৎপাদন হয় পটুয়াখালীতে। এ বছর জেলায় ৭২ হেক্টর জমিতে মুগডালের চাষ হয়েছে।

মুগডাল চাষকে আরও সহজ করতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ডাল বীজ বপন যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। এ যন্ত্র ব্যবহার করে জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ডালের বীজ বপন করা হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলনও বেশি পাচ্ছে।

প্রথমবারের মতো এবার ভোলা থেকেও জাপানে মুগডাল রফতানি হচ্ছে। ভোলায় এ বছর ২৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে মুগডালের চাষ হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন হয়েছে দেড় টন, যেটাকে বাম্পার ফলন বলা যায়। আবাদ করা মুগের মধ্যে বেশি হয়েছে উন্নত জাতের বারি মুগ-৬।

রফতানির সুবাদে দক্ষিণের ন্যায় পশ্চিমের জেলাগুলোতেও মুগ ডালের চাষ বাড়ছে। এবার যশোর জেলায় ১ হাজার ৪৪৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহ ৪ হাজার ৮৯১ হেক্টরে, মাগুরায় ৬৫২ হেক্টরে, কুষ্টিয়ায় ৫০৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টরে ও মেহেরপুরে ৫৯ হেক্টরে গ্রীষ্মকালীন বারি মুগ-৬ এর চাষ হয়েছে। এ মুগের ফলন ভাল। এবার হেক্টর প্রতি গড় ফলন হয়েছে এক দশমিক ৬১ টন।

আগে কৃষকরা শুধু আমন ধান আবাদ করত। কিন্তু বর্তমানে চাষাবাদের নতুন নতুন কৌশল ও জাত উদ্ভাবিত হওয়ায় কৃষকরা এখন দুই থেকে তিনটি ফসল আবাদ করতে পারছে। এমনই একটি ফসল মুগডাল। বর্তমান বছরে এ অঞ্চলের কৃষকরা বারি মুগ-৬ জাতের ডাল আবাদ করে ভাল ফলন পেয়েছে। এর ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অঞ্চলের কৃষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে। কৃষকরাও হচ্ছে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী। ক্রমে শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে আমাদের কৃষি অর্থনীতি।

About মো: শামসুজ্জোহা, গাইবান্ধা

Check Also

সুদিন ফিরছে সোনালী আঁশে

সোনালী আঁশের দেশ বলে পরিচিত বাংলাদেশ সোনালী আঁশের ঐতিহ্য হারাতে বসেছিল। কিন্তু সরকারের নানাবিধ উদ্যোগের …

শাহজাদপুরে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

স্বাধীন কথা ডটকম, শনিবার, ৩ নভেম্বর- ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : আজ শনিবার শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ হল …

সুষম উন্নয়ন সূচকে ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ

বিশ্বের উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর সুষম উন্নয়ন সূচকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে অনেক এগিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *