শুক্রবার - এপ্রিল ২৬ - ২০১৯ ||
Home / তথ্য ও প্রযুক্তি / তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ : ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার

তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ : ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার

বাংলাদেশের গ্রামগুলো আঁকা ছবির মতো যেমন সুন্দর তেমনি সহজ সরল সেই গ্রামের বসবাসরত মানুষজন। এই গ্রামগুলোকে নিয়েই গড়ে উঠেছে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদ দেশের প্রাচীনতম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এটি তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সবচেয়ে কাছের সরকার। গ্রাম বাংলার মানুষের সমস্যা, সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা, দোরগোড়ায় তাদের নাগরিক সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য সর্বদা সচেষ্ট ছিল দেশের ইউনিয়ন পরিষদ। এই ইউনিয়ন পরিষদকে আরো আধুনিক করার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি)।

গত ১১ নভেম্বর ২০১০ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয় থেকে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র প্রশাসক ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিস হেলেন ক্লার্ক ভোলা জেলার চর কুকরিমুকরি ইউনিয়ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের সকল ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র (ইউআইএসসি) একযোগে উদ্বোধন করেন। এই সকল কেন্দ্র থেকে মাসে প্রায় ৪০ লক্ষ গ্রামীণ মানুষ তথ্য ও সেবা গ্রহণ করছে। ডিজিটাল সেন্টার মাধ্যমে সহজে, দ্রুত ও কম খরচে সরকারি ও বেসরকারি সেবা পাবার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমানের ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

‘জনগণের দোরগোড়ায় সেবা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ করছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। ইউডিসি’র মূল লক্ষ্য হল, ইউনিয়ন পরিষদকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, যাতে এই সব প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের মধ্যে একটি তথ্য ও জ্ঞান-ভিত্তিক দেশ প্রতিষ্ঠায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এই সব কেন্দ্র সরকারি-বেসরকারি তথ্য ও সেবাসমূহ জনগনের কাছাকাছি নিয়ে যেতে, প্রযুক্তি বিভেদ দূর করতে ও সকল নাগরিককে তথ্য প্রবাহের আধুনিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করতে সুদুর প্রসারী ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে জনগণকে সেবার জন্য ঘুরতে হয় না। সেবাই পৌঁছে যাচ্ছে জনগণের দোরগোড়ায়।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ খুব সহজে সরকারি কর্ম, নোটিশ , পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত তথ্য, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন বিষয়ক তথ্য, চাকরির খবর, নাগরিক ও জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য, পাবলিক পরীক্ষার আবেদন ও ফল প্রকাশসহ অন্যান্য সরকারি সেবা খুব সহজেই পাচ্ছেন তাদের হাতের নাগালে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির লক্ষ্যে সরকারি অফিসে ই- হাজিরা, ই- নথি, ই-পর্চা, ই-ফর্ম, ই- লার্নিং এবং ই- টেন্ডার চালু করেছে। দেশের সকল ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় পাঁচ হাজার ২৮০টি ডিজিটাল ইউনিয়ন সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

জনগণের জন্যই সরকার। এই মূলমন্ত্রে দেশের সকল ক্ষেত্রে মানুষের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নয়ন করা হচ্ছে এবং সেই সাথে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।

About মো: শামসুজ্জোহা, গাইবান্ধা

Check Also

গাইবান্ধায় ৩ দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু

আঞ্চলিক ইজতেমার অংশ হিসেবে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। বৃহস্পতিবার ফজরের …

রাত পোহালেই মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার

স্বাধীনকথা ডট কম আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এরপরই পর্দা উঠবে ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০১৮’-এর। …

কুমারখালীর হোগলায় চাপাইগাছি গাজী চম্পাবতী মেলার নামে চলছে টিকিট বিক্রির জুয়ার আসর

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার হোগলা গ্রামের চাপাইগাছি গাজী কালু চম্পাবতী বৈশাখী মেলায় চলছে লটারির জুয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *