মঙ্গলবার - জুলাই ১৬ - ২০১৯ ||
Home / বিবিধ / অনুসন্ধান / চৌহালী উপজেলা প্রশাসন ও থানার কার্যক্রম কলেজ কক্ষে সেবা গ্রহীতা ও প্রদানকারীদের দুর্ভোগ চরমে

চৌহালী উপজেলা প্রশাসন ও থানার কার্যক্রম কলেজ কক্ষে সেবা গ্রহীতা ও প্রদানকারীদের দুর্ভোগ চরমে

জহুরুল ইসলাম, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

যমুনার ভাঙনে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন বিলীন হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চৌহালী সরকারী কলেজের ধার করা কক্ষে চলছে ইউএনও, থানা পুলিশ সহ অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তার কার্যক্রম। এতে নানা দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সেবা গ্রহীতা ও প্রদানকারীদের। এদিকে ভবন নির্মানের প্রশাসনিক অনুমোদন হলেও অজ্ঞাত কারনে শুরু হচ্ছে না নির্মান কাজ। এছাড়া থানা পুলিশের নিজস্ব ভবন না থাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আসামী নিয়ে পাশাপাশি কক্ষেই অফিস ও রাত্রী যাপন করছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে যমুনা নদীর সাড়ে তিন কিলোমিটার অদুরে প্রায় ২০ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় চৌহালী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন। অনন্য স্থাপত্য নির্মানশৈলী দ্বারা নির্মীত দুটি সু-বিশাল দ্বিতল ভবনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ অন্য সকল কর্মকর্তার কার্যালয় ছিল। পরিকল্পিত ভাবে নির্মীত উপজেলা হেডকোয়ার্টার সংলগ্ন ছিল থানা পুলিশের ভবন, খাদ্য গুদাম ও উপজেলা  সদর হাসপাতাল। সে সময় গুরুত্বপূর্ন কাজে চরাঞ্চল থেকে আগতদের এক অফিস থেকে অন্য অফিসে যেতে দু-চার মিনিটি সময় লাগত। কোন পরিবহনের প্রয়োজন হতো না। সহজেই বেশ কয়েকটি কাজ সম্পূন্ন করে বাড়ি ফিরতে পারত তারা। সভা-সেমিনারের জন্য আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন অডিটরিয়াম ছিল। ছিল সু-বিশাল খেলার মাঠ, প্রধান ঈদগাহ ময়দান, শহীদ মিনার, ডাকবাংলো ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক আবাসিক কোয়ার্টার। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সেবা প্রার্থীদের পদচারনায় মুখরিত থাকত উপজেলা সদর। এছাড়া অত্যাধুনিক সকল সুযোগ সুবিধাসহ ছিল সবুজের সমারেহ, সবমিলে অত্যান্ত সাজানো গোছানো ও মনোরম পরিবেশ ছিল উপজেলা প্রধান কার্যালয়ের। কিন্তু বিগত ৯ বছরে যমুনার ক্রমাগত ভাঙনে বিলীন হতে থাকে উপজেলা সদরের আশ-পাশের এলাকার বসত-ভিটা, বিভিন্ন বেসরকারী আর্থিক ও এনজিও প্রতিষ্ঠান। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড শতাধিক কোটি টাকার বরাদ্দ দিলেও তখন কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ২০১৫ সালের বন্যায় যমুনার আগ্রাসী থাবায় ইউএনও কার্যালয়সহ উপজেলা হেডকোয়ার্টার নদীতে বিলীন হয়ে যায়। একই সাথে থানা ভবন, খাদ্য গুদাম, সদর হাসপতাল, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাস ভবন নদী গর্ভে চলে। উপজেলা সদর এলাকায় চলে ভাঙনের তান্ডবলীলা। মুর্হুতের মধ্যে নদীতে রুপান্তরিত হয় উপজেলা সদর এলাকা। তারপর ভাঙন এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে ঐতিহ্যবাহী চৌহালী সরকারী কলেজের কক্ষ ধার নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা পুলিশ ও অন্যান্য কর্মকর্তার কার্যালয় স্থাপন করে কোন রকম চলে আসছে কার্যক্রম। এদিকে খাষকাউলিয়া ফাজিল মাদরাসায় একটি টিনসেড ভবন নির্মান করে চলছে হাসপাতালে কার্যক্রম। গিঞ্চি পরিবেশে অত্যান্ত দুর্ভোগে পরে সকল কর্মকর্তাকে কলেজের ধার করা কক্ষে অফিস করতে হচ্ছে। এজন্য কোন অফিস কোথায় তা চরাঞ্চল থেকে আগত অনেকেই জানেন না। প্রথম দিকে বেশ কয়েকটি অফিসের অস্তিতই খুজে পাওয়া যায়নি । সামনে সাইবোর্ড ঝুলছে কলেজ ছাত্র সংসদের কিন্তু ভিতরে গিয়ে দেখা যায় কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে। থানার ওসি ও এলজিইডির প্রকৌশলীকে অনেক সময় বারান্দাই বসে সেবা দিতে দেখা যায়। আবার কিছু কিছু কর্মকর্তা আবাসন সমস্যার অজুহাতে নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকতা বলেন, বসার জায়গা নেই, বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। আসবাবপত্র রাখার জায়গা নেই, ফাইলপত্র রাখব কোথায় ? তাই একটু অনিয়মিত। নতুন ভবন হলে নিয়মিত হবে কার্যক্রম। কেউ কেউ আবার ভ্রাম্যমান ভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একারনে এক দিকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সেবাদানকারীদের একই সাথে সাথে যমুনার চরাঞ্চল থেকে আগত জনসাধারনকে পড়তে হচ্ছে মহাদুর্ভোগে। অনেক সময় তাদের প্রয়োজনীয় কাজে এসে অফিসারকে না পোয়ে বাড়ি চলে যেতে হচ্ছে। এ দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ২০১৫ সালে সাবেক সাংসদ আবদুল মজিদ মন্ডল ও রাজশাহী বিভাগের তৎকালীন কমিশনার হেলালুদ্দিন আহম্মেদ উপজেলা পরিষদ হেডকোয়ার্টার নির্মানে কোদালিয়া পূর্বপাড়া, বাকুলগাড়া ও কুরকীতে জমি পরিদর্শন করেন। সবদিক বিবেচনা করে যাচাই বাছাই শেষে কোদালিয়া পূর্বপাড়ায় ৬ একর ভূমি অধিগ্রহন করে উপজেলা পরিষদের হেডকোর্টার নির্মানের প্রশাসনিক অনুমোদন হয়। পরে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশে তা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ভবন নির্মানে চরকোদালিয়া মৌজার চরকোদালিয়া পূর্বপাড়া ৬ একর ভূমি অধিগ্রহন করে ভবন নির্মানে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পত্র প্রেরণ করা হয়। সম্প্রতি ভূমি অধিগ্রহনের টাকা হস্তান্তর করা হয় কিছু পরিবারকে। তবে এখনো এলাকাবাসি জানে না কবে নাগাদ শুরু হবে চৌহালী উপজেলা পরিষদ হেডকোয়ার্টার নির্মান কার্যক্রম। উপজেলা বাসীর দুর্ভোগ লাগবে দ্রুত

About জহুরুল ইসলাম বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ

Check Also

সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ইন্তেকাল করেছেন

স্বাধীনকথা ডট কম : বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান, সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন …

গাইবান্ধায় সকল নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত: নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কয়েকদিন হলো চলা ভারী ও হালকা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার নদ …

গাইবান্ধায় বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে ত্রান বিতরন

গাইবান্ধা সদর উপজেলার পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয় । শনিবার দুপুরে কামারজানি ইউনিয়নের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *