বৃহস্পতিবার - এপ্রিল ১৮ - ২০১৯ ||
Home / জাতীয় / কোনো মুসলমান মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারে না
???? ??? ??? ?????? ??? ??? ????, ???? ?????? ??? - ??????? ???? ???

কোনো মুসলমান মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারে না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে পয়লা বৈশাখ যে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয় সেটাকে শরিয়ত সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। কোনো মুসলমান এই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে আল্লামা আহমদ শফী বলেন, ‘ষোড়শ শতকে মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বর্তমানের যে বাংলা বর্ষপঞ্জি তৈরি হয় তা ফসল রোপণ এবং কর আদায় সহজ করার উদ্দেশ্যেই করা হয়। হালখাতা, পিঠা-পুলি বানানোর মাধ্যমে পয়লা বৈশাখ যেভাবে উদযাপন হয়ে আসছিল তাতে নতুন নতুন যেসব আয়োজন যোগ হচ্ছে তাতে যেমন ধর্মীয় বিধানাবলীর বিপরীতে অবস্থান নেয়া হচ্ছে, তদ্রূপ আমাদের সংস্কৃতি হুমকিতে পড়ছে। কারণ জাতীয়তার চেয়ে জাতিসত্তার পরিচয় বড়। আর আমরা লক্ষ্য করছি এসব আয়োজনে ধীরে ধীরে যেভাবে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে, যা বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য কখনোই কল্যাণকর হবে না।’

‘মানুষের জীবনের কল্যাণ ও মঙ্গল-অমঙ্গল সবকিছুই আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুমে হয়। পৃথিবীর সব বিশ্বাসীরা এটাই বিশ্বাস করেন। কোনো মূর্তি, ভাস্কর্য, পোস্টার, ফেস্টুন ও মুখোশে মঙ্গল-অমঙ্গল থাকতে পারে না। বাঘ, কুমির, বানর, পেঁচা, কাকাতুয়া, ময়ূর, দোয়েলসহ বিভিন্ন পশুপাখি মঙ্গল আনতে পারে না।’

আহমদ শফী বলেন, ‘এসব বিশ্বাস যেমন ইসলামি শরিয়তবিরোধী চেতনা, তদ্রূপ এমন আধুনিক সময়ে মূর্তি-ভাস্কর্য ও জীবজন্তুর ছবিতে মঙ্গল-অমঙ্গল কামনা করা একটি কুসংস্কারচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণা।’

মঙ্গল শোভাযাত্রা বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর পয়লা বৈশাখের সকালে বাদ্যযন্ত্রের তালে নানা ধরনের বাঁশ-কাগজের তৈরি মূর্তি, পেঁচার আকৃতি ও মুখোশ হাতে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে মাত্র ২৮ বছর আগ থেকে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা কীভাবে সার্বজনীন বাঙালি উৎসব ও সংস্কৃতি হতে পারে?’

তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে আল্লামা শফী বলেন, ‘তোমরা যারা আবেগের বশবর্তী হয়ে, ভুল ধারণায় প্ররোচিত হয়ে কিংবা বয়সের কারণে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও গানবাদ্যের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করো তোমরা তার নিজেদের বিরত রাখো। যৌবনকাল আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত সবচেয়ে বড় নেয়ামত। তোমাদের মূল্যবান সম্পদ ‘তারুণ্য’ যিনি দান করেছেন তার ইবাদতে ও সন্তুষ্টিতে তা কাজ লাগাও। জীবন সুন্দর হবে, আত্মিক প্রশান্তি লাভ করবে।’

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে যেভাবে অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, ধর্ষণ ও পাপাচার বেড়ে চলছে এর থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের উচিত মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তার ইবাদাতে মগ্ন হওয়া। নিজেদের আত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জনে চেষ্টা-সাধনা করা। কারণ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি ও পরিশুদ্ধতা ছাড়া শুধু মানবরচিত আইনের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার গজব ও পাপাচার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব না।’

About রুবেল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

Check Also

কথা, আবৃত্তি ও সংগীতের মাধ্যমে কণ্ঠশীলনের ছত্রিশে পদার্পণ

স্বাধীনকথা ডট কম ২রা বৈশাখ ১৪২৬, সোমবার সন্ধ্যা সাতটা। কণ্ঠশীলন কার্যালয়, বৃহত্তর যশোর সমিতি ভবন, …

সাদুল্যাপুর স্বামীর ছুঁড়া এসিডে নাবালিকা বধুর পুড়ে গেল নিন্ম অংগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের স্বীকার নাবালিকা বধু শরিফা । পাষন্ড স্বামীর এসিড …

গাইবান্ধা সাঘাটায় ১২ জুয়ারী আটক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধা জেলার পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়ার নির্দেশে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *