শুক্রবার - নভেম্বর ১৬ - ২০১৮ || ৭ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী || ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ( বর্ষাকাল )
Home / প্রচ্ছদ / ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িতে

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছারিবাড়িতে

স্বাধীন কথা ডটকম, বৃহস্পতিবার, ২৩ আগস্ট ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : ঈদ-উল-আজহা’র পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। তাদের পদচারনায় ও মিলনমেলায় মুখরিত ও প্রাঞ্জলিত হয়ে উঠেছে কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণ। বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়ি দর্শণে এসে তারা কবিগুরুর ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি দেখে তৃপ্তির ঢেঁকুর ফেলে বাড়ি ফিরছেন। ঈদ পরবর্তীতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পর্যটক ও রবীন্দ্র অনুরাগীরা কাছারিবাড়ি পরিদর্শনে শাহজাদপুরে আসছেন। শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় বিনোদন পিয়াসুদেরও ঢল নেমেছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছাড়িবাড়ি প্রাঙ্গণে।
জানা গেছে, শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র। ইতিহাস থেকে জানা যায়, তিন তৌজির অন্তর্গত ডিহি শাহজাদপুরের জমিদারী একদা নাটোরের রানী ভবানীর জমিদারীর অংশ ছিল। ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারী নিলামে উঠলে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর মাত্র তের টাকা দশ আনায় এই জমিদারী কিনে নেন। জমিদারীর সাথে সাথে ওই কাছারিবাড়িটি ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। আগে এই কাছারিবাড়ির মালিক ছিল নীলকর সাহেবরা। ১৮৯০ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত কবি রবীন্দ্রনাঠ ঠাকুর জমিদারী দেখাশোনার কাজে শাহজাদপুরে সাময়িকভাবে বসবাস করতেন। তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহে। সম্ভবত এই কারণেই শিলাইদহে তাঁর বাসগৃহ কুঠিবাড়ী নামে এবং শাহজাদপুরের বাড়িটি কাছারিবাড়ি নামে পরিচিত। শাহজাদপুরে কবিগুরু ঘুরে বেড়িয়েছেন পালকিতে, নৌকায় ও পায়ে হেটে। শাহজাদপুর শহরের প্রানকেন্দ্র দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত কাপড়ের হাটের দক্ষিণ পাশে এক সবুজ শ্যমল পরিবেশে কবিগুরুর কাছারিবাড়ি অবস্থিত। শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত একটি দ্বিতল ভবন। ভবনটির দৈর্ঘ্য ২৬.৮৫ মিটার, প্রস্থ ১০.২০ মিটার এবং উচ্চতা ৮.৭৪ মিটার। ভবনটির দ্বোতলার সিড়ি ব্যতিত মোট সাতটি কক্ষ রয়েছে। ভবনটির উত্তর দক্ষিনে একই মাপের প্রশস্ত বাড়ান্দা,বাড়ান্দার গোলাকৃতির জোরামাপের খাম,উপরাংশে আছে অলংকরণ করা বড় মাপের দরজা,জানালা ও ছাদের ওপরে প্যারাপেট দেয়ালে পোড়ামাটির শিল্পকর্ম দর্শনাথীদের বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ে। ভবনটির জানালা দিয়ে চারপাশের মনোরম, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ কবি উপলব্ধি করতেন। কাছারিবাড়িতে বসেই কবি প্রাণভরে ছোট নদী দেখতেন ও শুনতেন ছোটনদীর স্রোতধারার মিশ্রিত সুর।
শাহজাদপুরে এসে মানুষ ও প্রকৃতিকে কবি গভীরভাবে ভালবেসেছিলেন। এখানে তিনি খুজে পেয়েছিলেন সাহিত্য সৃষ্টির নানা উপাদান। এখানে অবস্থানকালে তিনি রচনা করেন, সোনারতরী, বৈষ্ণব কবিতা, দুটি পাখি, আকাশের চাঁদ, পুরস্কার ,যমুনা, হৃদয়, ভরা ভাদরে, প্রত্যাক্ষান ও লজ্জা, চিত্রা, শীত ও বসন্তে, নগর সংগীত, নদীযাত্রা, মৃত্যুমাধুরী, স্মৃতি বিলয়, প্রথম চুম্বন, শেষ চুম্বন, যাত্রী, তৃণ, ঐশ্বর্য, স্বার্থ,প্রেয়সী, শান্তিময়, কালিদাসের প্রতি, কুমার, মানষলোক, কাব্যপ্রার্থনা, ইছামতী নদী, সুশ্রুসা, অশিক্ষাগ্রহন, বিদায়, নববিবাহ, রজ্জিতা, বিদায়, হতভাগ্যের গান, গতোনিক, বঞ্চনা, সংকোচ, মানষপ্রতিভা, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, ব্যবধান, তারাপ্রসন্নের কীর্তি, ছুটি, সম্পত্তি, ক্ষুধিত পাষাণ, অতিথি,ইত্যাদি। এছাড়া কবিগুরু এখানে অবস্থান করে ৩৮ টি বিভিন্ন ছিন্ন পত্রাবলী লিভেছেন, রচনা করেছেন পঞ্চভূতের অংশবিশেষ ও নাটক বিসর্জন ।
শাহজাদপুর কাছারিবাড়ির দ্বোতলার উত্তর পাশে লিচুগাছ ও শোভা বর্ধনের জন্য নানা ফুলের গাছে ঘেরা কবিগুরুর অপরূপ কাছারিবাড়িটি বহুদুরের পথিকেরও দৃষ্টি আকর্ষন করে। কাছারিবাড়ির চারদিক প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরের আশেপাশে রয়েছে নানা দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষের বাগান। কাছারিবাড়ির ভিতরে একটি বকুলগাছ ছিল। কবি ওই গাছের নীচে বসে কবিতা লিখতেন। ১৯৬৯ সালে প্রতœতত্ব্ অধিদপ্তর কর্তৃক অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় কাছাড়িবাড়িকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ওই কাছাড়িবাড়ির মূল ভবনটির নান সংস্কার কাজ সমাপ্ত করে ভবনটিতে রবীন্দ্রভিত্তিক আলোকচিত্র ও এ বাড়িতে কবির ব্যবহৃত প্রাপ্ত আসবাপত্র নিয়ে একটি স্মৃতি যাদুঘরের রূপ দেয়া হয়েছে। দক্ষিণ দিকের দরজা দিয়ে ওই যাদুঘরে প্রবেশ করতে হয়। নিচতলা ও দ্বোতলার বিশাল হলরুমসহ যাদুঘরের সকল কক্ষ সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত । চারদিকে পাঁকা দেয়ালে বেষ্ঠিত কাছারিবাড়ির আঙ্গিনাটিও বেশ বড়।
এখানে রয়েছে রবীন্দ্র মিলনায়তন,কবির ব্যবহৃত সামগ্রীর মধে চৌকি, লেখার জন্য ডেস্ক, সোফাসেট, আরাম কেদারা, আলনা, আলমারী, সিন্দুক, ঘাস কাটার যন্ত্র, ওয়াটার ফিল্টার, ল্যাম্প, কবির স্বহস্তে আঁকা ছবি, দেশী বিদেশী রাষ্ট্রনায়ক, বিজ্ঞানীসহ গুণিজনদের সাথে কবির অগনিত ছবি।
ঈদান্তে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাছাড়িবাড়িতে দর্শনার্থীরা এসে ভীড় করছেন এবং কবিগুরুর স্মৃতিধন্য কাছাড়িবাড়ি পরিদর্শণ করে তৃপ্তি নিয়ে ফিরছেন। ঈদের ছুটির সদ্ব্যবহারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরের কাছারিবাড়ি ঘুরে আসুন।

About শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

Check Also

নয়াপল্টন থমথমে, পুরো রাস্তা ফাঁকা

পুলিশ ও বিএনপির নেতা কর্মীর সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো নয়াপল্টন থমথমে …

শাহজাদপুরে জাসদ প্রার্থী শফিকুজ্জামান শফির দলীয় মনোনয়ন ফরম জমাদান

স্বাধীন কথা ডটকম, বুধবার, ১৪ নভেম্বর- ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ  : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৬ ( …

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০। দেশটির তরফ থেকে এই তথ্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *