রবিবার - জুন ১৬ - ২০১৯ ||
Home / বাংলাদেশ / রাজশাহী / আভিজাত্যের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির তৈরী বাড়ি

আভিজাত্যের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির তৈরী বাড়ি

মাসুদ রানা রাব্বানী (রাজশাহী ব্যুরো প্রধান) : আভিজাত্যের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির তৈরী বাড়ি। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা শান্তির নীড় মাটির দোতলা বাড়ি। যাকে গ্রামের মানুষ বলতো, গরিবের এসি ঘর মাটির বাড়ি। বর্তমানে আভিজাত্যের দাপটে এমন মাটির দোতলা বাড়ি এখন আর তেমন নজরে পড়ে না।

বেশিদিনের কথা নয়, প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়তো মাটির ঘর। কিন্তু গ্রামের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন এসেছে, বিভিন্ন এনজিওর ঋণ ও কায়িক পরিশ্রম করা গরিব পরিবারগুলো এখন তৈরি করছে ছোট্ট আকারে দালান। তার উপরে তুলছেন টিনের চালা।

একসময় গোদাগাড়ী উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে এ সকল মাটির বাড়ি-ঘর চোখে পড়তো। যেখানে লাল বা চিপটে মাটি সহজলভ্য সেখানে এ ঘরগুলো বেশি তৈরি করা হয়। কিন্তু কালের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এ সকল ঐতিহ্যবাহী মাটির দোতলা বাড়ি। এই বাড়ি শীত ও গরম মৌসুমে আরামদায়ক বলে গ্রামের গরিব ও দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি অনেক বিত্তবানও এই মাটির দোতলা বাড়ি তৈরি করতেন।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অতি প্রাচীনকাল থেকেই মাটির বাড়ির প্রচলন এবং গ্রামের মানুষের কাছে এই বাড়ি ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল। এঁটেল বা আঠালো মাটি কাদায় পরিণত করে ২-৩ ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হয়। ১০-১৫ ফুট উঁচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড় বা টিনের ছাউনি দেয়া তৈরি করা এই মাটির বাড়িতে গৃহিণীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা এঁকে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বলে বর্তমান সময়ে দীর্ঘ স্থায়িত্বের কারণসহ গ্রামাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক পরিবর্তন হওয়ায় গ্রামের মানুষরা ইট-সিমেন্টের বাড়ি নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছেন। ভূমিকম্প বা বন্যা না হলে একটি মাটির বাড়ি শত বছরেরও বেশি স্থায়ী হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে ইট-বালির দালান কোঠা আর বড় বড় অট্টালিকার কাছে হার মানছে মাটির বাড়ি। গোদাগাড়ীর বাঁধন ও সোনাসহ অনেকেই বলেন, মাটির তৈরি বাড়ি তারা পেয়েছেন পৈত্রিকভাবে। তাদের পূর্ব পুরুষরাও এই মাটির তৈরি বাড়িতেই জীবন কাটিয়ে গেছেন। তাই এখনও তারা এই বাড়িগুলো ভাঙ্গেন নি।

গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার ফলেই গত ১০ বছরের মধ্যেই মাটির দোতলা বাড়ি ভেঙ্গে পাকা বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। সেই সাথে এখন আর কেউ নতুন ভাবে মাটির বাড়ি তৈরি করার কথা মাথায় আনতেও চাচ্ছেন না, যার যা আছে তা দিয়েই সকলেই ইট-সিমেন্ট দিয়ে পাকা বাড়ি তৈরি করছেন। অনেকেই বলছেন এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় মাটির দোতলা বাড়ির ছবি ছাড়া আর বাস্তবে মাটির দোতলা বাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবেনা। 

স্বাধীন কথা ডট কম – ১৭ মে ২০১৯

About মাসুদ রানা রাব্বানী, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।

Check Also

মানুষের নৈতিক চরিত্র ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে, আরইউজে’র ইফতার মাহফিলে বুলবুল

রাজশাহী ব্যুরো প্রধান : রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) আয়োজিত আলোচনা ও ইফতার অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র …

রাজশাহী জেলা পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগসংক্রান্ত সর্তকীকরণ

রাজশাহী ব্যুরো প্রধান : রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে আগামী (১ জুলাই) রাজশাহী জেলার বিপরীতে নিয়োগযোগ্য ট্রেইনি রিক্রুট …

ঈদুল ফিতরের আগেই সকল মিডিয়া-কর্মীদের বকেয়া বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি, আরইউজের

রাজশাহী ব্যুরো প্রধান : রাজধানী এবং অন্যান্য মহানগরী ও জেলা শহর থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র, টিভি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *